Bengal’s #1 Career Portal

West Bengal School Dengue Awareness Camp 2026: রাজ্যের স্কুলে ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্প, পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে জোর

বর্ষা শেষ হওয়ার পর মশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে ডেঙ্গু সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি জোরদার করার খবর সামনে এসেছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রশাসনিক বৈঠকের পর স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে জেলাগুলির বিদ্যালয় পরিদর্শকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু পড়ুয়াদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা নয়, স্কুলের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়াও। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন পুরনো নির্দেশনাতেও স্কুলে পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল কমানো এবং পড়ুয়াদের মধ্যে ডেঙ্গু সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

West Bengal School Dengue Awareness Camp 2026 একনজরে

বিষয়তথ্য
কর্মসূচিডেঙ্গু সচেতনতা ও প্রতিরোধ কর্মসূচি
লক্ষ্যস্কুলে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি
সংশ্লিষ্ট দপ্তরস্কুল শিক্ষা দপ্তর
কর্মসূচির ক্ষেত্রসরকারি স্কুলগুলিতে কার্যক্রম
বিশেষ উদ্যোগSHVR – School Health and Vector-borne disease Risk Management
পড়ুয়াদের ভূমিকাসচেতনতা প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণ
প্রধান বিষয়পরিচ্ছন্নতা, জল জমা রোধ, সচেতনতা প্রচার

কেন স্কুলগুলিতে ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি?

ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা দ্রুত পরিষ্কার করা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি নথিতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেক্টর-বাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে।

পড়ুয়াদের কী ভূমিকা থাকবে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্কুলে শুধুমাত্র শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো নয়, পড়ুয়াদেরও সচেতনতা তৈরির কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণকে ‘বাধ্যতামূলক’ বলা হলেও, প্রকাশ্য সরকারি নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে না থাকায় সেই বাধ্যতামূলকতার নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রয়োগ পদ্ধতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

স্কুলগুলিতে কোন কোন কর্মসূচি হতে পারে?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১. জল জমে থাকা বন্ধ করা

স্কুলের ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র বা অন্য কোনও জায়গায় যাতে দীর্ঘদিন জল জমে না থাকে, সেদিকে নিয়মিত নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২. ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার রাখা

স্কুলের ভিতরে এবং আশপাশের ড্রেন বা নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নজরে রাখতে হবে।

কোনও রাসায়নিক বা মশা নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন বা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

৩. খাবার ও পানীয় জলের জায়গা পরিষ্কার রাখা

মিড-ডে মিল বা খাবার তৈরির জায়গা এবং পানীয় জলের পাত্রের আশপাশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৪. সচেতনতা পদযাত্রা

পড়ুয়া ও স্কুল কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে স্থানীয় এলাকায় সচেতনতা পদযাত্রার আয়োজন করা হতে পারে। পোস্টার, প্ল্যাকার্ড বা প্রচারমূলক বার্তার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

৫. অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা

স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর জন্য প্রচারপত্র বিলি বা স্থানীয় সচেতনতা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

SHVR কর্মসূচি কী?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল পর্যায়ে SHVR – School Health and Vector-borne disease Risk Management কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন স্কুল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হিসেবে স্কুল চত্বরে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পড়ুয়া ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের কী কী বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত?

ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্কুল কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হল:

  1. স্কুল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
  2. কোথাও জল জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করা।
  3. ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, টায়ার ও পরিত্যক্ত পাত্র পরীক্ষা করা।
  4. ছাদ ও নিকাশি ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা।
  5. পানীয় জলের জায়গা পরিষ্কার রাখা।
  6. খাবার তৈরির স্থান স্বাস্থ্যসম্মত রাখা।
  7. প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা।
  8. পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

পড়ুয়াদের জন্য কী বার্তা?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন পড়ুয়া নিজের বাড়ি এবং পাড়াতেও সচেতনতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, বালতি, পুরনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র বা অন্য কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে তা পরিষ্কার করার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সচেতন করা যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভেক্টর-বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কর্মসূচিতেও মশার প্রজননস্থল কমানো এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘সপ্তাহে একদিন’ পরিষ্কার করার গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সরকারি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, মশার সংখ্যা কমানোর জন্য নিয়মিত, বিশেষ করে সাপ্তাহিকভাবে, বাড়ি ও আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়।

তাই স্কুলের পাশাপাশি বাড়িতেও জমে থাকা জল সরিয়ে ফেলা এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল নষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কথা

স্কুলে সচেতনতা কর্মসূচি হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বড় অংশ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত। তাই অভিভাবকদেরও সন্তানের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।

বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, জল রাখার পাত্র এবং অন্যান্য জায়গায় জমে থাকা জল নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

FAQs

প্রশ্নউত্তর
স্কুলে ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি কেন করা হচ্ছে?মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্কুলে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
পড়ুয়ারা কি কর্মসূচিতে অংশ নেবে?প্রকাশিত প্রতিবেদনে পড়ুয়াদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
SHVR-এর পূর্ণরূপ কী?School Health and Vector-borne disease Risk Management।
স্কুলে কী ধরনের কার্যক্রম হতে পারে?পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জল জমা রোধ, সচেতনতা প্রচার, পদযাত্রা এবং স্থানীয়দের সচেতন করার মতো কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে।
শুধু স্কুল পরিষ্কার রাখলেই কি ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব?না। বাড়ি ও স্কুলের আশপাশের পরিবেশ থেকেও মশার প্রজননস্থল দূর করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই কর্মসূচির সরকারি নির্দেশিকা কোথায় পাওয়া যাবে?সংশ্লিষ্ট স্কুল শিক্ষা দপ্তর বা জেলা শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

শেষ কথা

রাজ্যের স্কুলগুলিতে ডেঙ্গু সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে স্কুল চত্বরে জল জমতে না দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পড়ুয়াদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক এবং কর্মসূচির নির্দিষ্ট সময়সূচি কী, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে ধরা উচিত।

তথ্যসূত্র

এই প্রতিবেদনের সাম্প্রতিক কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ববর্তী সরকারি নথিতে স্কুলে ডেঙ্গু ও অন্যান্য ভেক্টর-বাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনার প্রমাণ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *