কৃষকবন্ধু প্রকল্প ২০২৬: PM-Kisan-এর সঙ্গে একসঙ্গে সুবিধা নয়, ১০ অক্টোবরের মধ্যে যাচাই
কৃষকবন্ধু প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। রাজ্যের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের PM-Kisan প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্যের সঙ্গেও কৃষকবন্ধুর তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
যাঁদের পুনর্বৈধকরণ বা যাচাইয়ের আবেদন এখনও জমা পড়েনি, তাঁদের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে তালিকায় নাম থাকা কৃষকদের আবেদন সংক্রান্ত বিষয়টি দ্রুত দেখে নেওয়া জরুরি।
একনজরে
কৃষকবন্ধু প্রকল্পে কী পরিবর্তন আসছে?
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নিয়ে নতুন করে যাচাইয়ের কাজ চলছে। মূল উদ্দেশ্য হল প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করছেন না এমন ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত যোগ্য কৃষকদের তথ্য যাচাই করা।
এর পাশাপাশি একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
একটি পরিবার থেকে কি একজনই সুবিধা পাবেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে একটি পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে ধরে একজন উপভোক্তাকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী বা অন্যান্য সদস্যের নামে আলাদা আলাদা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলে তা নতুন যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।
তবে এই নিয়মটি কীভাবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে, তার চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
কেন কৃষকবন্ধুর তালিকা নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে?
প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল যোগ্য ব্যক্তিদেরই সুবিধার আওতায় রাখা।
বিশেষ করে সরকারি চাকরি, আয়কর প্রদান অথবা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে থাকা ব্যক্তিরা যাতে ভুলভাবে সুবিধা না পান, সেই বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
PM-Kisan ও কৃষকবন্ধু একসঙ্গে পাওয়া নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
এই বিষয়টিই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নথিভুক্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ ৯ হাজার ৫৭১ জন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৮ লক্ষ ৫৫ হাজার জন একই সঙ্গে PM-Kisan-এর সুবিধাভোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাকি কৃষকদের তথ্যও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, PM-Kisan-এর সুবিধা পাওয়া মাত্রই কৃষকবন্ধুর সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে – এমন সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত সরকারি নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
কতজন কৃষক ইতিমধ্যে যাচাইয়ের আবেদন করেছেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ লক্ষ ৭৪ হাজার কৃষক পুনর্বৈধকরণের আবেদন জমা দিয়েছেন।
এর মধ্যে প্রায় ৩৯ লক্ষ কৃষককে যোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার নাম বাদ পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় কৃষি দফতরের সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা উচিত।
১০ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ
প্রথমে এই যাচাইয়ের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু বহু কৃষকের আবেদন এখনও জমা না পড়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ অক্টোবর ২০২৬ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যাঁদের পুনর্বৈধকরণের আবেদন এখনও বাকি রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিসে গিয়ে কৃষি আধিকারিকের কাছে প্রয়োজনীয় ফর্ম ও নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আবেদন বাকি থাকলে কী করবেন?
- নিজের কৃষকবন্ধু সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।
- পুনর্বৈধকরণের আবেদন প্রয়োজন কি না তা সংশ্লিষ্ট কৃষি দফতরে জেনে নিন।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন।
- সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস বা কৃষি আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার প্রমাণ বা রসিদ থাকলে তা সংরক্ষণ করুন।
কৃষকবন্ধু প্রকল্পে টাকার পরিমাণ কমবে কি?
প্রতিবেদনে আরও একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সর্বোচ্চ সহায়তার পরিমাণ ১০,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬,০০০ টাকা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ – টাকার পরিমাণ কমানোর বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়, যদি না রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে PM-Kisan প্রকল্পে যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।
কৃষকদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের তালিকায় নাম রয়েছে এমন কৃষকদের এখন প্রথমে দেখতে হবে তাঁদের পুনর্বৈধকরণের আবেদন জমা হয়েছে কি না।
বিশেষ করে যাঁদের আবেদন এখনও বাকি, তাঁদের ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর সময়সীমা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করা উচিত।
শুধু সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের উপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশিকা এবং স্থানীয় কৃষি দফতরের তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ।
শেষ কথা
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা যাচাই এবং PM-Kisan-এর সঙ্গে তথ্য মেলানোর বিষয়টি কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিবার থেকে কতজন সুবিধা পাবেন, PM-Kisan-এর সঙ্গে কৃষকবন্ধুর সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে এবং সহায়তার পরিমাণে কোনও পরিবর্তন হবে কি না – এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁদের যাচাই বা পুনর্বৈধকরণের আবেদন এখনও জমা হয়নি, তাঁরা দেরি না করে সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করুন এবং ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।
Leave a Reply