Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার ₹৩,০০০ জমিয়ে পাণ্ডুয়ার গ্রামে প্রথম দুর্গাপুজো, উদ্যোগ মহিলাদের
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ। কিন্তু হুগলির পাণ্ডুয়ার একটি গ্রামে এবারের পুজো হয়ে উঠেছে আরও বিশেষ। কারণ এই গ্রামে এবারই প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। আর সেই পুজোর খরচের জন্য কোনও সরকারি অনুদান বা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে না বলে আয়োজকদের দাবি।
গ্রামের গৃহবধূদের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে এই নতুন পুজো কমিটি। Annapurna Yojana-এর মাধ্যমে পাওয়া ₹৩,০০০-এর অর্থ থেকেই পুজোর জন্য টাকা দিচ্ছেন গ্রামের মহিলারা।
একনজরে
Annapurna Yojana-এর টাকা দিয়ে প্রথম দুর্গাপুজো
হুগলির পাণ্ডুয়ার সিমলাগড় গোয়াড়া হাটপুকুর গ্রামে প্রতি বছর কালীপুজোর আয়োজন হলেও দুর্গাপুজো এতদিন হয়নি। এবছর প্রথমবার গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগে সেখানে দুর্গার আরাধনা হতে চলেছে।
এই পুজোর আয়োজন করেছে গ্রামের মাতৃশক্তি কমিটি। আয়োজকদের বক্তব্য, পুজোর জন্য কোনও সরকারি অনুদান নেওয়া হচ্ছে না। একইভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদাও তোলা হচ্ছে না।
গ্রামের মহিলারাই নিজেদের পাওয়া Annapurna Yojana-এর টাকা থেকে পুজোর জন্য অর্থ দিচ্ছেন।
৬০ জন মহিলা, পুজোর বাজেট ₹১.৮০ লক্ষ
এই দুর্গাপুজোর জন্য গ্রামের ৬০ জন মহিলা নিজেদের এক মাসের ₹৩,০০০ করে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী:
৬০ জন × ₹৩,০০০ = ₹১,৮০,০০০
অর্থাৎ প্রায় ₹১.৮০ লক্ষ বাজেট নিয়ে এবার গ্রামে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের বক্তব্য, যাঁরা Annapurna Yojana-এর টাকা পেয়েছেন, তাঁরা যেমন এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন, তেমনই এখনও যাঁরা টাকা পাননি তাঁরাও পুজোর কাজে সহযোগিতা করছেন।
খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু প্রস্তুতি
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সোমবার পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনির মধ্যে খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ক তুষার মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এরপর থেকেই গ্রামের মহিলাদের মধ্যে পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। প্রতিমা, মণ্ডপ, পুজোর সামগ্রী এবং অন্যান্য আয়োজন ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গৃহবধূদের উদ্যোগেই মাতৃবন্দনা
এই পুজোর অন্যতম বিশেষ দিক হল, আয়োজকদের বড় অংশই গ্রামের গৃহবধূ।
স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্য, Annapurna Yojana-এর মাধ্যমে পাওয়া অর্থ তাঁদের নিজেদের হাতে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। সেই অর্থের একটি অংশ একত্র করে তাঁরা গ্রামের প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন।
এক স্থানীয় মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এবছর তাঁদের গ্রামে প্রথম দুর্গাপুজো হচ্ছে এবং ৬০ জন মহিলা এক মাসের ₹৩,০০০ করে দিয়ে পুজোর খরচ জোগাচ্ছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা সকলেই গৃহবধূ এবং চাকরি করেন না। ফলে তাঁদের কাছে এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁরা টাকা পাননি, তাঁরাও পাশে
পুজোর উদ্যোগে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। আয়োজকদের দাবি, শুধু Annapurna Yojana-এর টাকা পাওয়া মহিলারাই নন, এখনও যাঁরা এই প্রকল্পের টাকা পাননি তাঁরাও পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
অর্থাৎ গ্রামের মহিলাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই প্রথমবারের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি চলছে।
এই কারণে পুজোটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, গ্রামের মহিলাদের অংশগ্রহণের একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে।
এতদিন দুর্গাপুজোয় বাইরে যেতে হতো
গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন দুর্গাপুজোর সময় তাঁদের অন্য এলাকায় ঠাকুর দেখতে যেতে হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা মৃদুলা বিশ্বাস জানিয়েছেন, আগে পুজোর দিনগুলিতে তাঁদের পাড়া অনেকটাই নিরিবিলি থাকত। গ্রামের মধ্যেই এবার দুর্গাপুজো হওয়ায় তাঁরা খুশি এবং এবছর বাইরে গিয়ে ঠাকুর দেখার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে নতুন পুজোকে ঘিরে গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
সরকারি অনুদান ছাড়াই পুজো করার দাবি
স্থানীয় বিধায়ক তুষার মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক পুজো কমিটি সরকারি অনুদান নিয়ে পুজো আয়োজন করে। কিন্তু পাণ্ডুয়ার এই পুজো কোনও সরকারি অনুদান ছাড়াই হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, Annapurna Yojana-এর অর্থ ব্যবহার করে গ্রামের মহিলারা নিজেদের উদ্যোগে এই পুজো করছেন।
তবে এখানে উল্লেখযোগ্য, পুজোর অর্থের উৎস সম্পর্কে এই তথ্যটি আয়োজক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
Annapurna Yojana থেকে পাওয়া টাকার নতুন ব্যবহার
সাধারণত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরে উপভোক্তারা নিজেদের সংসারের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে সেই অর্থ ব্যবহার করেন। পাণ্ডুয়ার এই গ্রামের মহিলারা অবশ্য নিজেদের পাওয়া অর্থের একটি অংশ একত্র করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর ফলে Annapurna Yojana-এর টাকা ঘিরে গ্রামের মহিলাদের মধ্যে সম্মিলিত উদ্যোগের একটি ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে।
প্রথম দুর্গাপুজো ঘিরে গ্রামের প্রত্যাশা
এবারের পুজো ঘিরে গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এতদিন যে গ্রামে দুর্গাপুজো ছিল না, সেখানে প্রথমবার ঢাক বাজবে, প্রতিমা আসবে এবং পুজোর কয়েকটি দিন গ্রামের মধ্যেই উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে।
আয়োজক মহিলাদের আশা, ভবিষ্যতেও এই পুজো নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
Annapurna Yojana-এর টাকা দিয়ে পুজো: এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | সিমলাগড় গোয়াড়া হাটপুকুর, পাণ্ডুয়া, হুগলি |
| পুজো | দুর্গাপুজো |
| এবার কততম | প্রথমবার |
| আয়োজক | গ্রামের মহিলাদের মাতৃশক্তি কমিটি |
| অংশগ্রহণকারী মহিলা | ৬০ জন |
| প্রতি মহিলার দেওয়া অর্থ | ₹৩,০০০ |
| মোট বাজেট | প্রায় ₹১.৮০ লক্ষ |
| সরকারি অনুদান | আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী নেওয়া হয়নি |
| চাঁদা | আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী নেওয়া হয়নি |
| খুঁটিপুজো | সম্পন্ন হয়েছে |
| স্থানীয় বিধায়ক | তুষার মজুমদার |
Annapurna Yojana FAQ
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| কোথায় প্রথমবার দুর্গাপুজো হচ্ছে? | হুগলির পাণ্ডুয়ার সিমলাগড় গোয়াড়া হাটপুকুর গ্রামে। |
| কারা পুজোর আয়োজন করছেন? | গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগে মাতৃশক্তি কমিটি এই পুজোর আয়োজন করছে। |
| কতজন মহিলা টাকা দিচ্ছেন? | প্রতিবেদনে ৬০ জন মহিলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। |
| প্রত্যেকে কত টাকা দিচ্ছেন? | প্রত্যেকে এক মাসের ₹৩,০০০ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। |
| মোট বাজেট কত? | ৬০ × ₹৩,০০০ হিসেবে প্রায় ₹১.৮০ লক্ষ। |
| সরকারি অনুদান নেওয়া হচ্ছে কি? | আয়োজকদের দাবি, এই পুজোয় সরকারি অনুদান নেওয়া হচ্ছে না। |
| গ্রামের আগে কি দুর্গাপুজো হতো? | প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরই প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে। |
| গ্রামে অন্য কোনও পুজো হয়? | প্রতিবেদনে প্রতি বছর কালীপুজোর আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। |
শেষ কথা
হুগলির পাণ্ডুয়ার সিমলাগড় গোয়াড়া হাটপুকুর গ্রামের এবারের দুর্গাপুজো তাই অন্যরকম। গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন হচ্ছে এবং আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, কোনও সরকারি অনুদান বা চাঁদা ছাড়াই Annapurna Yojana-এর ₹৩,০০০-এর অর্থ একত্র করে পুজোর বাজেট তৈরি করা হয়েছে।
৬০ জন মহিলার উদ্যোগে প্রায় ₹১.৮০ লক্ষ বাজেটের এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই গ্রামে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। যাঁরা প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন এবং যাঁরা এখনও পাননি, উভয় পক্ষের মহিলারাই এই উদ্যোগে পাশে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
Leave a Reply